• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে মডার্ণ ল্যাবের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ

সিসি নিউজ, ১ নভেম্বর: সৈয়দপুরের মডার্ণ ল্যাবের আল্ট্রাসনোগ্রামের একের পর এক ভুল রিপোর্টে রোগীদের হয়রানি রাড়ছে বলে অভিযোগ মিলেছে। ল্যাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের রিপোর্টকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানে রিপোর্ট দাবী করলেও উন্নত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাদের রিপোর্ট ভুল বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ফলে ওই ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আসা রোগীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর শহরের ইসলামবাগ এলাকার দর্জি জাহিদ পেট ব্যথায় মডার্ণ ল্যাবে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। ল্যাব কর্তৃপক্ষ তাদের রিপোর্টে দাবী করেন যে জাহিদের কিডনীতে ৭ এমএম আকৃতির পাথর হয়েছে। দর্জি জাহিদের পরিবার ধার-দেনা করে পরদিন রংপুরের ডেল্টা ডায়গনিষ্টিক যান। ওই ক্লিনিকের ডাঃ মোঃ মোরশেদ আলী পুনরায় আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যন্য পরীক্ষা করালে জাহিদের কিডনিতে পাথর খুঁজে পাননি। পরে এসিডিটিক পেইনের চিকিৎসা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় জাহিদকে। আর বাড়িতে ফিরে ওই রোগীসহ তার পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন সৈয়দপুরের মর্ডান ল্যাবের পরীক্ষার রিপোট নিয়ে।
দর্জি জাহিদের এ ঘটনা চাউর হওয়ার সাথে-সাথে শহরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বেরিয়ে আসতে শুরু করে মডার্ণ ল্যাবের আল্ট্রাসনোগ্রামের ভুল রিপোর্ট নিয়ে।
সৈয়দপুর পৌরসভার পানি বিভাগের পরিদর্শক মোঃ মোকছেদ আলী জানান, আমার ছেলের নাকি পাকস্থলি ছিদ্র হয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ওই ল্যাবের রির্পোট অনুযায়ী দ্রুত অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।এমন অবস্থায় বিচলিত হয়ে রংপুরে যাওয়ার পর আবারো পরীক্ষা করায় সেখানে এসিডিক রিয়াকশন পেইন ধরা পড়ে।
একই অভিযোগ করেন, শহরের নয়াবাজার এলাকার ওয়াসি আলম(৪০)। তিনি স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে পেটের ব্যথার জন্য হোল এ্যাবডোমেন আলট্রাসনোগ্রাম করান সৈয়দপুরের মর্ডান ল্যাবে। সেখানে পরীক্ষায় জানতে পারেন তার কিডনিতে ৫ থেকে ৬ এমএম পাথর রয়েছে। দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। এমন প্রস্ততিতে রংপুরে যাওয়ার পর অপারেশন করানোর জন্য একটি ল্যাবে আবার আলট্রাসনোগ্রাম করেন। তবে কোন পাথর ধরা পড়েনি তার কিডনিতে। আজও ওয়াসি সুস্থ রয়েছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগিদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা উক্ত টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি নিচ্ছি।
এ নিয়ে ওই ক্লিনিকটির চিকিৎসক ও আলট্রাসাউন্ড স্পেশালিষ্ট ডাঃ মোফাক্ষারুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি ভুয়া রিপোটের কথা অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন প্রশ্রাবের সাথে পাথর বের হয়ে থাকতে পারে। তাই পরের পরীক্ষায় হয়ত পাথর পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর উপজেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডাঃ শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, এগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ তাদের ভুল রিপোর্টে রোগীরা হয়রানিসহ নানা ভাবে ক্ষতির শিকার হয়। আর চিকিৎসকদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ